
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন ও জানাজা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করেছে তেহরান। দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে খামেনির স্মরণসভায় গঠিত বিশেষ রাষ্ট্রীয় কমিটি এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করল।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির (Mehr News Agency) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিটির কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর থেকে আয়াতুল্লাহ খামেনি ও তার পরিবারের নিহত সদস্যদের জানাজা এবং স্মরণসভা নিয়ে দ্বিতীয় দফা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, ইসলামের ইতিহাসে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইনের (রা.) শাহাদাত ও শোকানুষ্ঠান পালনের বিষয়ে শহীদ নেতার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে পবিত্র মহররম মাসের প্রথম ১০ দিন কোনো আনুষ্ঠানিকতা করা হবে না। আগামী মহররমের প্রথম দশ দিন অর্থাৎ পবিত্র আশুরার শোক পালন শেষ হওয়ার পরপরই এই মহান নেতার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হবে।
স্মরণসভা কমিটি দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে এই বিশাল আয়োজনের সময় ও বিবরণ নিয়ে মনগড়া জল্পনা এবং যাচাইবিহীন ভুয়া প্রতিবেদন প্রচারের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমে ছড়ানো অসত্য তথ্য এই ঐতিহাসিক শেষ বিদায়ের সমাবেশে যোগ দিতে ইচ্ছুক বিশ্বের লাখ লাখ শোকাহত মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।
কমিটি আরও জানিয়েছে, ইতিহাসের এই বৃহত্তম শোক সমাবেশে অংশ নিতে আসা কোটি মানুষের যথাযথ নিরাপত্তা ও লজিস্টিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে ইরানের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনী এবং জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো চূড়ান্ত সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করছে। এই মেগা অনুষ্ঠান সংক্রান্ত প্রতিটি বিস্তারিত তথ্য ও রুট প্ল্যান পরবর্তীতে সদর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক ও তীব্র হামলা শুরুর প্রথম দিনেই তেহরানে নিজ কার্যালয়ে বিমান হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারেরও কয়েকজন সদস্য প্রাণ হারান। এর আগে তেহরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের প্রধান মহসেন মাহমুদ বলেছিলেন, খামেনির জানাজা এমন একটি বৈশ্বিক ও ঐতিহাসিক আয়োজন হবে, যা ইরান ও সমগ্র ইসলামি বিশ্বের ইতিহাসে অভূতপূর্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতিমধ্যে প্রতিবেশী দেশ ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে সাধারণ মানুষ ও রাষ্ট্রপ্রধানদের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন ও কাফেলা প্রস্তুতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি টানা ৩৬ বছর ছয় মাস এই পদে অধিষ্ঠিত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে মার্কিন ও ইসরাইল বিরোধী শিবিরের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।