
তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে বিভিন্ন মহলের নানামুখী আলোচনার মাঝেই আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বিড়ির দাম ও করহার সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে নতুন অর্থবছরে বিড়ির খুচরা মূল্য কিংবা শুল্ক কাঠামোতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসছে না।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসন-৩ এর সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার এক সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা তার প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন— জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি, বিশেষ করে বিড়ির খুচরা মূল্যের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও এক শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রেখে নতুন বাজেটে অতিরিক্ত কোনো সম্পূরক শুল্ক (Supplementary Duty) আরোপ করার পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা।
সংসদকে উত্তর দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "সরকার দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজস্ব আয়ের খাতগুলো পর্যালোচনা করছে। তবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির ক্ষেত্রে খুচরা মূল্য এবং শুল্ক-করহার আগের বছরের (অর্থবছর ২০২৫-২৬) ন্যায় হুবহু অপরিবর্তিত রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরে বিড়ি খাতের কর বিন্যাস নিম্নরূপ বহাল থাকছে:
মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট): বিড়ির খুচরা মূল্যের ওপর বিদ্যমান ১৫% ভ্যাট বহাল থাকবে।
স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ: জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য হওয়ায় আগের মতোই ১% সারচার্জ প্রযোজ্য হবে।
সম্পূরক শুল্ক: বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক হারে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক যোগ হচ্ছে না।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় বিড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই হয়তো সরকার আসন্ন বাজেটে বিড়ির দাম ও করহারে নতুন কোনো বোঝা না চাপানোর এই রক্ষণশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তে কিছুটা হতাশা ব্যক্ত করে বলছেন, কর না বাড়ালে তামাকের ব্যবহার কমানোর বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।