
ডেঙ্গু ও অন্যান্য মৌসুমী রোগের প্রকোপের মাঝেই এবার সারা দেশে আশঙ্কাজনকভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সংক্রামক ব্যাধি হাম (Measles)। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে অন্তত আটজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে তীব্র জ্বর ও শরীরে লালচে গুটিসহ হামের জটিলতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩৯ জন রোগী।
বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই হিসাবটি মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা পরিসংখ্যান দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলেছে।
চলতি মৌসুমে হামের এই আকস্মিক বিস্তার ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংগৃহীত প্রধান তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
আক্রান্তের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বার্তা অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছিল। তবে একদিনে ১ হাজার ৩৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হওয়া এবং ৮ জনের মৃত্যুর ঘটনা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
শিশুদের ঝুঁকি বেশি: চিকিৎসকদের মতে, নিহত ও আক্রান্তদের একটি বড় অংশই শিশু। বিশেষ করে যারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় হামের প্রতিষেধক বা এমআর (MR) টিকা সময়মতো নেয়নি, তারা এই ভাইরাসে দ্রুত ও মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে।
উপসর্গ ও জটিলতা: আক্রান্তদের মধ্যে উচ্চ মাত্রার জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পর্যায়ক্রমে সারা শরীরে সুনির্দিষ্ট লালচে দানাদার র্যাশ বা গুটি দেখা যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া কিংবা শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে রোগীদের মৃত্যু ঘটছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দেশের যেসব পকেটে বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ মেডিকেল টিম ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠানো হচ্ছে। একই সাথে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে ঘরে ঘরে গিয়ে টিকাবঞ্চিত শিশুদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেওয়ামাত্র কোনো প্রকার কবিরাজি বা অপচিকিৎসা না করিয়ে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে অন্তত দুই সপ্তাহ অন্য শিশুদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা (আইসোলেশনে) রাখা এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। (এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য ও জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান আসার পর প্রতিবেদনটি আপডেট করা হবে...)।