
ফেনীতে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবক ও এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার শর্শদি রেলগেইট এবং শহরের নাজির রোড এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় শর্শদি রেলগেইট এলাকায় একসঙ্গে দুটি ট্রেন অতিক্রম করছিল। এ সময় অসাবধানতাবশত সিলেট থেকে ছেড়ে আসা পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান আবু সুফিয়ান তোরাব (২৩) নামের এক যুবক। তিনি শর্শদির গজারিয়া কান্দি এলাকার ইউছুফের ছেলে। ওইদিন রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে (সন্ধ্যা ৬টার দিকে) শহরের গুদাম কোয়ার্টার সংলগ্ন নাজির রোড এলাকায় রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন রেজিয়া বেগম (৫৫)। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি কানে কিছুটা কম শুনতেন। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে রেলওয়ে পুলিশ এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তার মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। রেজিয়া বেগম ছাগলনাইয়ার মধ্যম শিলুয়া এলাকার মৃত আলী আশরাফের স্ত্রী। তিনি নাজির রোড এলাকায় ছেলের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ফেনী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় আনুমানিক দশ মিনিটের ব্যবধানে পৃথক স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় লাকসাম জিআরপি (GRP) থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।