
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের লক্ষণ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৫৮ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হলো। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১৬ জন শিশু। বর্তমানে সেখানে ৯৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজন ছেলে ও দুজন মেয়ে। এদের মধ্যে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার শাপলা বাজার এলাকার চার মাস বয়সী এক কন্যাশিশু গত ১৮ জুন ভর্তি হয়ে ২৬ জুন দুপুরে মারা যায়। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা সন্দেহজনক হাম ও নিউমোনিয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মাইশাচর এলাকার চার মাস বয়সী আরেক ছেলে শিশু ১৬ জুন ভর্তি হয়ে ২৬ জুন বিকেলে মারা যায়। সে সন্দেহজনক হাম, তীব্র নিউমোনিয়া ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বিকল হয়ে মারা গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এছাড়া, ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার পলাশকান্দা এলাকার তিন মাস বয়সী এক ছেলে শিশু ২৬ জুন সকালে ভর্তি হয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় মারা যায়। শিশুটি সন্দেহজনক হাম, তীব্র নিউমোনিয়া ও জন্মগত হৃদরোগে (এএসডি) ভুগছিল। অপর শিশুটি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুর এলাকার আট মাস বয়সী এক কন্যাশিশু। গত ৮ জুন ভর্তি হওয়া এই শিশুটি ২৬ জুন রাতে মারা যায়। সে সন্দেহজনক হাম ও নিউমোনিয়ার পাশাপাশি তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছিল।
চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে শুরু করে ২৭ জুন পর্যন্ত মমেক হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ২ হাজার ৩৭৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ২২৬ জন শিশু।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬ জন শিশু ভর্তি হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯ জন শিশু। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করায় হাসপাতালে একটি পৃথক হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সেখানে একাধিক মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর অফিসার ঝন্টু সরকার সর্বশেষ এই চার শিশুর মৃত্যু এবং নতুন করে রোগী ভর্তি ও সুস্থ হওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন।