
স্মার্টফোনের দুনিয়ায় স্যামসাং সব সময়ই নতুন কিছু নিয়ে আসার চেষ্টা করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাজারে এসেছে তাদের নতুন ফোন 'গ্যালাক্সি A27'। ফোনটিতে বেশ কিছু আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া থাকলেও, কিছু জায়গায় ব্যবহারকারীদের বেশ বড়সড় আপস বা সমঝোতা করতে হতে পারে। সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ফোনটি আগের মডেল 'গ্যালাক্সি A26' থেকে এগিয়ে থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ ৩টি ক্ষেত্রে এটি উল্টো পিছিয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে ক্যামেরা, ফোনের বডি বা গঠন এবং স্থায়িত্বের দিক থেকে নতুন এই মডেলে বেশ কিছুটা ঘাটতি দেখা গেছে।
ক্যামেরার দিক থেকে স্যামসাং এবার একটু অদ্ভুত কৌশল বেছে নিয়েছে। ফোনের সামনে তারা যুক্ত করেছে একটি আধুনিক ১২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। কাগজে-কলমে এর মেগাপিক্সেল আগের গ্যালাক্সি A26-এর (১৩ মেগাপিক্সেল) চেয়ে কম মনে হলেও, কম আলোতে এটি বেশ চমৎকার ও নিখুঁত রঙের ছবি তুলতে পারে।
আসল হতাশার জায়গাটি হলো এর পেছনের আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা। গ্যালাক্সি A26-এ যেখানে ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড সেন্সর ছিল, সেখানে গ্যালাক্সি A27-এ তা কমিয়ে মাত্র ৫ মেগাপিক্সেল করা হয়েছে। এর ফলে ল্যান্ডস্কেপ বা প্যানোরামিক ছবি তোলার সময় ডিটেইলিং বা ছবির স্পষ্টতা অনেকটাই কমে যাবে। তবে সত্যি বলতে, আগের সংস্করণের ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার পারফরম্যান্সও আহামরি কিছু ছিল না। তাই সেরা মানের ছবির জন্য আপনাকে সব সময়ই মেইন বা প্রধান সেন্সরের ওপর ভরসা করতে হবে।
ডিজাইনের ক্ষেত্রে সাধারণত নতুন ফোনগুলো আরও পাতলা ও হালকা করার ট্রেন্ড দেখা যায়। কিন্তু গ্যালাক্সি A27-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা। ফোনটির বডি বা স্ট্রাকচারের পুরুত্ব আগের চেয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা একে কিছুটা ভারী বা মোটা অনুভূতি দিতে পারে।
প্রাকৃতিক ধুলোবালি বা পানির হাত থেকে ফোনকে সুরক্ষিত রাখার যে ক্ষমতা, অর্থাৎ এক্সটার্নাল রেজিস্ট্যান্সের দিক থেকেও ফোনটি আগের মডেলের চেয়ে কিছুটা দুর্বল। ফলে ব্যবহার করার সময় একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে।
আপনি যদি একদম লেটেস্ট প্রসেসর, আধুনিক সেলফি ক্যামেরা এবং সফটওয়্যার আপডেটের দিকে নজর দেন, তবে গ্যালাক্সি A27 ভালো বিকল্প। কিন্তু আপনি যদি আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরার ছবির কোয়ালিটি এবং একটি স্লিম ও চিপচিপে ডিজাইনের ফোন পছন্দ করেন, তবে আগের গ্যালাক্সি A26 এখনও অনেক দিক থেকে বেশি অর্থবহ।