
কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ আবারও আলোচনায়। দীর্ঘ ছয় মাস পর আজ শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়েছে। আর তাতে উঠে এসেছে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা যা অতীতের যেকোনো বারের চেয়ে বেশি।
জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খানের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। সিন্দুক থেকে টাকা প্রথমে বস্তায় ভরে মসজিদের দোতলায় নেওয়া হয়, এরপর মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনার কাজ।
এই বিশাল গণনা কর্মযজ্ঞে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ৫৭৮ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, দুটি মাদরাসার প্রায় ৪০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী-শিক্ষক এবং মসজিদ কমিটির সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নগদ টাকার পাশাপাশি এবারও মিলেছে বিদেশি মুদ্রা এবং সোনা-রূপার অলঙ্কার।
এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল। দিনভর গণনা শেষে সে সময় মোট পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা, সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। এবার ছয় মাসের দীর্ঘ বিরতির পর বাক্স খোলায় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গণনা শেষে এযাবৎকালের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির স্থাপিত হতে পারে।
আড়াইশো বছরের পুরনো এই মসজিদটিকে ঘিরে মানুষের বিশ্বাস ও আবেগ অনন্য। প্রচলিত আছে, এককালে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক সাধক নরসুন্দা নদীতে মাদুরে ভেসে এসে এই স্থানে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর সেই কবরের পাশেই গড়ে ওঠে মসজিদটি। আজও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে মনের বাসনা নিয়ে আসেন — কেউ রোগমুক্তির প্রত্যাশায়, কেউ সন্তান লাভের আশায়, কেউবা উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান জানান, দানবাক্স খোলা থেকে গণনা এবং শেষমেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সারা বছরই দানবাক্সের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেওয়া হয় না বলেও তিনি জানান।
দিনভর গণনা শেষে আজ সন্ধ্যায় বা রাতের মধ্যে জানা যাবে এবারের মোট দানের পরিমাণ। সেই সংখ্যাটি ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখবে কি না — সেই অপেক্ষায় এখন গোটা দেশ।