
মিসরের বিপক্ষে ড্র করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ইরান। ম্যাচ শেষে নিজেদের এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ফিফা এবং স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরান দলের অধিনায়ক মেহদী তারেমি। তার ভাষায়, “এটা একটা জঘন্য বিশ্বকাপ।”
অবিচারের অভিযোগ তারেমির ম্যাচ শেষে রাগান্বিত মেহদী তারেমি বলেন, “ফিফার উচিত ছিল সব সমস্যার সমাধান করা। দুর্ভাগ্যবশত শুরু থেকেই তারা সেটি করতে পারেনি। আমাদের লজিস্টিক টিমের কোনো সদস্যকে ভিসা দেওয়া হয়নি। একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমন একটি টুর্নামেন্টে এই ধরনের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
ইরানের অভিযোগ, শুরু থেকেই তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, তাদের বারবার মেক্সিকোর তিহুয়ানা থেকে যাতায়াত করতে হয়েছে, যা একজন খেলোয়াড়ের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত কঠিন। তারেমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কেন বারবার তিহুয়ানা থেকে যাতায়াত করব? আমরা তিহুয়ানা ও মেক্সিকোর মানুষকে ভালোবাসি, কিন্তু পেশাদার টুর্নামেন্টে এটি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
ফিফার বিরুদ্ধে তোপ ইরানকে কি ইচ্ছাকৃতভাবে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে ফিফা? এমন প্রশ্নের জবাবে তারেমি বলেন, “লোকে কী চায় আমি জানি না। তবে আমাদের এখানে সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। ৯০ মিনিট ফুটবল খেলার পর আমাদের আবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হয়, ফিফার কাছে কি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়?”
গোল বাতিল ও বিদায়ের শঙ্কা মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ইরান ২-১ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল করা হয়। ম্যাচটি ড্র হওয়ার ফলে গ্রুপ পর্বে তৃতীয় স্থানে থেকে এখন ইরানকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে অন্যান্য ম্যাচের ফলাফলের দিকে। নকআউট বা ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ জায়গা পেতে এখন তাদের সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর তালিকায় থাকার অপেক্ষা করতে হবে।
ইরান অধিনায়কের এই বিস্ফোরণ প্রমাণ করে, মাঠের বাইরের রাজনৈতিক ও লজিস্টিক জটিলতা কতটা প্রকটভাবে প্রভাব ফেলেছে তাদের পারফরম্যান্সে। ফিফার ভূমিকা নিয়ে এখন বিশ্ব ফুটবল মহলে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।