
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জয়নগর থেকে নাগরিপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হতে না হতেই হাত দিয়ে টানলেই পিচ ও পাথর উঠে যাচ্ছে। এই ঘটনার একটি ৫ মিনিট ৬ সেকেন্ডের লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শনিবার (২৭ জুন) সকালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আপাতত সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী সড়কে ২৫ মিলিমিটার পুরু কার্পেটিং করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গাজী এন্টারপ্রাইজ’ সেই মান বজায় রাখেনি। এমনকি কার্পেটিং করার আগে নিয়ম অনুযায়ী বিটুমিন (পিচ) দিয়ে সড়ক প্রস্তুত করার যে নিয়ম, তাও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে সামান্য হাতের স্পর্শেই কোটি টাকার সড়কের কার্পেটিং উঠে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতারা জানান, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই উন্নয়ন হচ্ছে। অথচ এমন নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে যা তিন মাসও টিকবে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তাঁরা মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর আগেও এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা পার পেয়ে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী এন্টারপ্রাইজের মালিক গাজী মনির বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে জানান, তিনি সরকারের নির্দেশনা মেনেই কাজ করছেন এবং এ বিষয়ে জানতে এলজিইডি অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন। অন্যদিকে, লালমাই উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম জানান, কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ঠিকাদারকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে; সেই শর্ত পূরণ করতে পারলে তবেই কাজ পুনরায় শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে। লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুব্রত বিশ্বাস দাসও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এলজিইডির কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি নির্দেশনা এবং ভবিষ্যতে মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।