
চাকরিজীবীদের জন্য একটা স্বস্তির খবর নিয়ে আসছে নতুন বাজেট। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বার্ষিক বেতন আয় ৬ লাখ টাকার কম হলে আর কোনো আয়কর দিতে হবে না। করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করতে যাচ্ছে সরকার, যা এখন আছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
কেন কমল করের বোঝা
বেতন আয়ের এক-তৃতীয়াংশ কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত। অর্থাৎ করমুক্ত সীমা ৪ লাখ হলে বছরে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতনে আর হিসাব করতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা হলেও রেহাই দিতে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
এটি ধারাবাহিক একটা পদক্ষেপ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকার করমুক্ত সীমা সাড়ে ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার করেছিল। এবার আরও ৫০ হাজার টাকা বেড়ে সেটা ৪ লাখে পৌঁছাচ্ছে।
কিন্তু সব হিসাব এত সহজ নয়
কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলছেন, করমুক্ত সীমা বাড়ানোয় নিম্ন আয়ের বেতনভোগীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। তবে যাঁরা ব্যবসা, কৃষি, ভাড়া বা অন্য উৎস থেকে আয় করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন। কারণ ন্যূনতম করহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এক জায়গায় ছাড়, অন্য জায়গায় বাড়তি বোঝা।
সঞ্চয়পত্রের সুদ থেকে কাটা উৎসে কর আগে চূড়ান্ত কর হিসেবে ধরা হতো, এখন সেটা অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য হবে। বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের সীমাও ১৫ থেকে কমে ১০ শতাংশ হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলো মিলিয়ে দেখলে কারো করের বোঝা বাড়তেও পারে।
কালো টাকার সুযোগ বন্ধ
নতুন বাজেটে আরেকটি বড় পদক্ষেপ হলো কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আর নেই। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। পরে সেটা ১৫ শতাংশ হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার এই সুযোগ বাতিল করে দেয়, এবং এই নীতিই বহাল থাকছে নতুন বাজেটেও।
টিআইএন ছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে
সাধারণ মানুষের জন্য আরেকটি ভালো খবর আছে। ব্যাংক হিসাব খুলতে এখন আর করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন লাগবে না। আগে এই বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেকেই ব্যাংকিং সেবা থেকে দূরে ছিলেন। এই বিধান তুলে দেওয়ায় সাধারণ মানুষকে আনুষ্ঠানিক অর্থব্যবস্থার আওতায় আনা আরও সহজ হবে বলে সরকার মনে করছে।
জমি-ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য দেখানোর সুযোগ গেল
এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে যে বিধান ছিল, নিয়মিত হারে কর দিয়ে জমি বা ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য দেখানো যাবে, সেটি বাতিল হচ্ছে। শেয়ারবাজারের লভ্যাংশ আয়ের করহার অবশ্য আগের মতোই থাকছে।
সব মিলিয়ে নতুন বাজেটে বেতনভোগীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এলেও অন্যান্য আয়ের ক্ষেত্রে হিসাব একটু জটিল হয়েছে। কার কতটা সুবিধা হবে বা বোঝা বাড়বে, সেটা নির্ভর করবে আয়ের ধরনের ওপর।