
ফুটবল মাঠে নাটক যদি কখনো নিখুঁত রূপ পায়, তাহলে রবিবারের আলজেরিয়া বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচটা তার প্রমাণ। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ-জে তে ৯০ মিনিটে একটা নয়, দুটো গোল! আলজেরিয়া ৩-২ এগিয়ে গিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল। আর ঠিক তখনই অস্ট্রিয়া সমতা ফেরাল। ম্যাচ শেষ হলো ৩-৩ গোলে। দুই দলের সমর্থকরা একই সঙ্গে কাঁদলেন ও হাসলেন।
প্রথমার্ধ: অস্ট্রিয়ার আঘাত, আলজেরিয়ার প্রত্যুত্তর
মাঠে আলজেরিয়ার দখল ছিল ৬০ শতাংশ বল। তবুও গোলটা আগে করল অস্ট্রিয়া। ২৮ মিনিটে মার্কো আর্নোটোভিচের দলের হয়ে নেট কাঁপিয়ে এগিয়ে গেল তারা। ০-১ পিছিয়ে পড়া আলজেরিয়া অবশ্য বেশিক্ষণ ঘুরে বসে রইল না।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, যোগ করা সময়ে রিয়াদ মাহরেজের দলের হয়ে সমতা ফেরাল আলজেরিয়া। ১-১ তে বিরতিতে গেল দুই দল। অস্ট্রিয়া কোচ হাফটাইমে তিনটি পরিবর্তন আনলেন, স্পষ্ট বোঝা গেল দ্বিতীয়ার্ধে ছক বদলানোর পরিকল্পনা।
দ্বিতীয়ার্ধ: ফের গোল, ফের সমতা
৫৫ মিনিটে অস্ট্রিয়া আবার এগিয়ে গেল। মাঝমাঠের পরিবর্তন কাজে লেগেছে। আলজেরিয়া আবার পিছিয়ে, ১-২।
কিন্তু আলজেরিয়াকে দাবিয়ে রাখা যায়নি বেশিক্ষণ। ৬০ মিনিটে ঘরের মাঠের মতো সমর্থন পিঠে নিয়ে দ্বিতীয়বার সমতা ফেরাল তারা। ২-২। মাহরেজ, আউয়ার, চাইবি মিলিয়ে যে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিলেন, তার ফল মিলতে থাকল।
৯০ মিনিট, দুটো গোল, একটা হার্টব্রেক
৭১ মিনিটে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনল আলজেরিয়া। তাজা শক্তি মাঠে নামার ফল মিলল ৯০ মিনিটে। আলজেরিয়া গোল করে ৩-২ এগিয়ে গেল। স্টেডিয়ামে উৎসব শুরু। সমর্থকরা হিসাব কষতে বসলেন পরের রাউন্ডের।
তবে ফুটবল এত সহজে কাউকে জিততে দেয় না। একই মিনিটে, মানে ৯০ মিনিটেই অস্ট্রিয়া সমতা ফেরাল। ৩-৩। ডেভিড আলাবা, জাভের শ্লাগার, মার্সেল সাবিৎজারদের দল শেষ নিঃশ্বাসে বেঁচে গেল।
হুইসেলের পর আলজেরিয়ার খেলোয়াড়রা মাটিতে বসে পড়লেন। এত কাছে থেকে জয় হাতছাড়া হয়েছে। অস্ট্রিয়া শিবিরে স্বস্তি, কিন্তু উচ্ছ্বাস নেই। কারণ দুই দলই জানে, একটি পয়েন্ট কোনো দলকেই নিশ্চিন্তে রাখছে না।
ম্যাচের পরিসংখ্যান
আলজেরিয়ার বল দখল ছিল ৬০ শতাংশ, মোট শট ১১টি, লক্ষ্যে ৫টি। অস্ট্রিয়ার বল দখল ৪০ শতাংশ হলেও তারাও ১১টি শট নিয়েছে, লক্ষ্যে ছিল ৪টি। আলজেরিয়ার কোনো হলুদ কার্ড নেই, অস্ট্রিয়ার ছিল একটি, মাত্র ১১ মিনিটে।
এখন কী হবে
এই ড্রয়ে গ্রুপ-জের হিসাব আরও জটিল হয়ে গেছে। আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া দুই দলকেই শেষ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। গ্রুপ পর্বের এই নাটক মনে করিয়ে দিয়ে গেল, বিশ্বকাপে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো ফলাফলই চূড়ান্ত নয়।