
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক কিশোরীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করার এক নির্মম ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে সাকিব উদ্দিন (২২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই জঘন্য ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করায় ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর উল্টো হামলার ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল শনিবার (২৭ জুন) হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিন উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য সোনাদিয়া গ্রামের সফিক উদ্দিনের ছেলে। ভুক্তভোগী কিশোরী সম্পর্কে তার আপন মামাতো বোন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বসবাস করে আসছিল। গত ২ জুন তারা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর ৫ জুন বিকেলে ওই কিশোরী তার এক খালাতো বোনকে সাথে নিয়ে বড় বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে ফিরছিল। পথিমধ্যে ওত পেতে থাকা সাকিব জোরপূর্বক তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে সাকিব। সাথে থাকা খালাতো বোনটি দ্রুত বাড়ি ফিরে পরিবারকে বিষয়টি জানালে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন। পরবর্তীতে সাকিবের বাড়ি থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা জানান, ঘটনার পর প্রথমে তারা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিযুক্তের পরিবারের কাছে সঠিক বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে কোনো প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে হাতিয়া থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
এদিকে মামলা করার পর থেকেই সাকিবের পরিবার ও তাদের পক্ষের লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারটিকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ১৬ জুন সাকিবের পরিবারের সদস্য ও কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী তাদের বাড়িতে লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা-মা, জ্যাঠা-জ্যাঠিসহ এক শিশুও আহত হন। এই হামলার ঘটনায় পরবর্তীতে আরেকটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত সাকিব এলাকায় অত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল যুবক হিসেবে পরিচিত এবং এর আগেও তার বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কাজের অভিযোগ ছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেত না। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনা এবং পরবর্তীতে হামলার অভিযোগে দুটি আলাদা মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।