
ভারতে টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটের (গেটে) সবগুলোই খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। আজ রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা থেকে নদীটির পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার সকাল থেকেই তিস্তায় পানির স্তর বাড়তে থাকে। দুপুর ১২টায় পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার এবং বিকেল ৩টায় ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সন্ধ্যার দিকে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে। সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২২ সেন্টিমিটার, যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ৭ সেন্টিমিটার বেশি।
উজান থেকে নেমে আসা এই পানির কারণে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারি, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় চরের বাদামক্ষেত, ধানের বীজতলা ও মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক হাসান আলী জানান, ভারত থেকে পানি নেমে আসায় সকাল থেকেই পানি বাড়ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে চরের আমন ধানের চারা ও অন্যান্য ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ঢলের কারণে পানি দ্রুত বাড়ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সবগুলো কপাট খুলে রাখা হয়েছে। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি রাতে পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।