
হরমুজ প্রণালিতে দুই দিন ধরে চলা তীব্র সামরিক উত্তেজনার পর অবশেষে নমনীয় অবস্থানে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দীর্ঘ দফায় দফায় হামলার পর দুই দেশই সামরিক সংঘাত বন্ধ করে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার সরকারের মধ্যস্থতায় আগামী মঙ্গলবার থেকে রাজধানী দোহায় দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে এই বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বহুল আলোচিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’-র বিভিন্ন শর্ত ও পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করেই এই আলোচনা এগোবে। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যেই একধরনের যুদ্ধবিরতি বা শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।
এই সংকটের সূত্রপাত হয় গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে। হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান নৌবাহিনী হামলা চালালে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেন্টকোম ইরানের অভ্যন্তরে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের ডিপো এবং রাডার সিস্টেম ধ্বংস করতে পাল্টা বিমান হামলা চালায়। এর জের ধরে পরবর্তী দুই দিন মার্কিন বাহিনী এবং ইরানের অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একে অপরকে লক্ষ্য করে অনবরত রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ইরান কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তবে কুয়েত ও বাহরাইনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই মাঝআকাশে ধ্বংস করে দেয়, ফলে মার্কিন ঘাঁটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
দুই দিনের এই তুমুল লড়াইয়ের পর ২৭ জুন ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভিতে আইআরজিসি হুংকার দিয়ে বলেছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই প্রথমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং এর ফলশ্রুতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটিতে ‘নরক’ নেমে আসবে। ইরানের এমন প্রকাশ্য হুমকির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে একটি পোস্ট করেন। ট্রাম্প লিখেন, “আমরা ইরানে অত্যন্ত সফল একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছিলাম যা এখন স্থগিত আছে। তবে এমন মুহূর্ত আসতেই পারে যখন আমরা আর যৌক্তিক আচরণ করব না। আর সত্যিই যদি তেমন কিছু ঘটে, তবে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান’ নামটাই মুছে যাবে।” মূলত ট্রাম্পের এই কঠোর ও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়ার পরই ইরান সুর নরম করতে বাধ্য হয় এবং আলোচনার টেবিলে ফিরতে সায় দেয়।