
বেতন বৃদ্ধির মূল কাঠামো নতুন এই বেতন কাঠামোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গ্রেডভিত্তিক বেতন সমন্বয়ের ওপর। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বর্তমান ২০টি গ্রেডের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির হার বেশ ইতিবাচক রাখা হয়েছে।
গ্রেড ১ থেকে ১০: এই গ্রেডগুলোতে বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
গ্রেড ১১ থেকে ২০: মূলত মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এই গ্রেডগুলোতে সর্বোচ্চ ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বাস্তবায়নের রোডম্যাপ সরকার দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা এড়াতে দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিলেও, বর্তমানে একবারেই মূল বেতন কার্যকর করার বিষয়ে জোর দিচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে (আইবিএএসপ্লাসপ্লাস) কারিগরি জটিলতা এড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংকের বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ে ব্যয় হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ বর্তমানে পে কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশসমূহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সায় মিললেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট জারি করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর এই বেতন বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চাপ সামলে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: সরকারি নীতিনির্ধারণী মহল ও বাজেট বিশ্লেষণ।