
খেলার মাঠে ভবিষ্যদ্বাণী নতুন কিছু নয়। তবে কেউ যদি টানা তিনটি বিশ্বকাপের নিখুঁত পূর্বাভাস দিয়ে থাকেন, তবে তার কথার ওজন একটু আলাদাই হয়। জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্তে তেমনই একজন মানুষ। পেশায় শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ হলেও গাণিতিক মডেল মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণে তার বেশ সুনাম আছে। কিন্তু এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে তার সেই সুনামের দেয়ালে মস্ত বড় এক ফাটল ধরল!
তার ভবিষ্যদ্বাণী ছিল জাপানের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে গল্পটা অন্যরকমভাবে লিখল সেলেসাওরা। জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছাড়ার পরেই আর তর সইলো না ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের। ম্যাচ শেষ হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্লেমেন্তেকে রীতিমতো ট্রোল করেন তিনি।
নেইমার তার পোস্টে রসিকতা করে লেখেন, "মি. জোয়াকিম ক্লেমেন্তে, দয়া করে আগামী বিশ্বকাপে আবার চেষ্টা করবেন।" এখানেই শেষ নয়, ক্লেমেন্তের আরেকটি ভবিষ্যদ্বাণী ছিল যে এবারের আসরে নেদারল্যান্ডস চ্যাম্পিয়ন হবে। অথচ একই দিনে ডাচরা মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়। সেটি মনে করিয়ে দিয়ে নেইমার আরেকটি পোস্টে ছোট করে লেখেন, "আবারও ভুল।"
মজার ব্যাপার হলো, জাপানের বিপক্ষে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে চোট বা কৌশলী কারণে নেইমার নিজে মাঠে নামেননি। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে সাইডবেঞ্চেই রেখে দিয়েছিলেন অতিরিক্ত সময়ের কথা ভেবে। ম্যাচের ২৯ মিনিটে জাপান এগিয়ে গেলেও ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর খেলা যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির চমৎকার গোলে নাটকীয় জয় পায় ব্রাজিল।
উল্লেখ্য, জোয়াকিম ক্লেমেন্তে মূলত জিডিপি, জনসংখ্যা, তাপমাত্রা এবং স্টেডিয়ামে সমর্থকদের উপস্থিতির মতো চারটি বিষয়ের ওপর গাণিতিক মডেল তৈরি করে এই পূর্বাভাস দিয়ে থাকেন। কিন্তু ফুটবল যে কেবল খাতা-কলমের হিসাব বা গাণিতিক মডেলের সমীকরণ নয়, বরং মাঠের ৯০ মিনিটের আবেগ আর লড়াইয়ের খেলা তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল ব্রাজিল!