
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি বড় সিদ্ধান্ত এসেছে। দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে শূন্য থাকা ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পর আজই সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) কাছে এই সংক্রান্ত চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রধান শিক্ষকের সংকট দূর হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিধিমালা নিয়ে একটি আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধির অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছিল।
আজ প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের সেই আপিল মঞ্জুর করেন। এই রায়ের ফলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
আদালতের রায় আসার পরপরই শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সুখবরটি জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, রায় পাওয়ার পরপরই তিনি পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। পিএসসি চেয়ারম্যান দ্রুত শূন্য পদের তালিকা ও চাহিদা পাঠাতে বলায় আজ বিকেলের মধ্যেই এই ফাইল পিএসসিতে পাঠানো হচ্ছে। পিএসসি বিশেষ বিবেচনায় এই পদোন্নতি ও নিয়োগের কাজটি সম্পন্ন করবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি বর্তমানে ১০ম গ্রেডের আওতাভুক্ত। নিয়ম অনুযায়ী এই পদের ৮০ শতাংশ পূরণ করা হয় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ২০ শতাংশ পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়। ১০ম গ্রেডের পদ হওয়ায় এই পুরো প্রক্রিয়াটি পিএসসির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী:
মোট ৩৬,২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকরা পদোন্নতি পাবেন।
এই বিশাল সংখ্যক সহকারী শিক্ষক পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হয়ে গেলে তাদের আগের পদগুলো স্বাভাবিকভাবেই শূন্য হয়ে যাবে।
বর্তমানে সহকারী শিক্ষকের আরও প্রায় ২,২০০টি পদ শূন্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রধান শিক্ষক পদের এই প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষকের প্রায় ৩৮ হাজারের বেশি পদ নতুন করে শূন্য হবে।
সরকার জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষকের পদগুলো পূরণের পরপরই সহকারী শিক্ষকের এই বিশাল শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এতে করে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে যেমন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, তেমনই বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।