
চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক কঠিন পরীক্ষা দিয়ে নকআউট পর্বে পা রেখেছে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি করলেও পরের তিনটি ম্যাচেই দারুণ জয় পেয়েছে সেলেসাওরা। এরপর শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে জাপানকে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে তারা। তবে মাঠের খেলায় দারুণ ছন্দে থাকা ব্রাজিলের আসল পরীক্ষা শুরু হচ্ছে এখন থেকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ৫ জুলাই শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচে জয় পেলে শেষ আটে ব্রাজিলের সামনে কারা পড়তে পারে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখনই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সমীকরণ অনুযায়ী, নরওয়েকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে খেলতে হবে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর বিপক্ষে। এই দুটি দলই নিজেদের শেষ ম্যাচে দারুণ জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। ইংল্যান্ড যেখানে ডিআর কঙ্গোকে বিদায় করেছে, সেখানে ইকুয়েডরকে হারিয়ে সামনে এগিয়েছে মেক্সিকো।
এবারের আসরে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স বেশ চোখধাঁধানো। এখন পর্যন্ত তারা কোনো ম্যাচে হারেনি। সর্বশেষ ম্যাচে শুরুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়লেও শেষ ১৫ মিনিটের ঝড়ে ম্যাচ বের করে নেয় ইংলিশরা। দলের প্রধান তারকা হ্যারি কেইন ৪ ম্যাচে ৫ গোল করে আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। অন্যদিকে স্বাগতিক মেক্সিকো রক্ষণভাগে দেয়াল তুলে দিয়েছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো গোলই হজম করেনি তারা। ফলে শেষ আটে যে দলই ব্রাজিলের সামনে আসুক না কেন, সেমিফাইনালের টিকিট পেতে সেলেসাওদের নিজেদের সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে পারলে সেমিফাইনালে ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া কিংবা সুইজারল্যান্ডের মতো শক্তিশালী কোনো দল। তবে এই দূরবর্তী হিসাবের চেয়ে ব্রাজিলের জন্য এখন বড় চিন্তা হলো নরওয়েকে হারানো। আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে এবার নতুন ইতিহাস লেখার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে। তাছাড়া অতীত ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষে কথা বলছে না।
ফুটবল পরিসংখ্যান বলছে, ব্রাজিল এখন পর্যন্ত নরওয়ের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের কথা অনেকেই ভুলে যাননি। রোনালদো, রিভালদোদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী ব্রাজিল দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক দিয়েছিল নরওয়ে। এর বাইরে ১৯৮৮ এবং ১৯৯৭ সালের প্রীতি ম্যাচের একটিতে জিতেছিল নরওয়ে এবং অন্যটি ড্র হয়েছিল। এমনকি ২০০৬ সালের সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচটিও শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। অর্থাৎ চারবারের দেখায় নরওয়ের জয় দুটি এবং বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল সেই অধরা জয় তুলে নিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।