
চলতি ২০ cracks বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, তখন মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফুটবলারদের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। এবারের আসরে অংশ নেওয়া এমন ১৪ জন ফুটবলার আছেন, যাদের জন্য এই বিশ্বকাপ কেবল দেশের গৌরব অর্জনের লড়াই নয়, বরং নিজেদের ফুটবল ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক বড় মঞ্চ। টুর্নামেন্টে এখনও টিকে থাকা এই তারকারা বর্তমানে কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নন; ফলে বিশ্বকাপে তাঁদের পারফরম্যান্সই ঠিক করে দেবে আগামী মৌসুমে তাঁরা কোন ক্লাবের জার্সিতে মাঠে নামবেন।
চুক্তিহীন এই তারকাদের তালিকায় সবচেয়ে বড় ও আলোচিত নামটি হলো ব্রাজিলের মিডফিল্ডার কাসেমিরো। দীর্ঘ পাঁচ মৌসুম কাটানোর পর সম্প্রতি তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়েছেন। গুঞ্জন রয়েছে, লিওনেল মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিতে পারেন তিনি, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। জাপানের বিরুদ্ধে নকআউট পর্বের ম্যাচে গোল করে ব্রাজিলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ইতিমধ্যেই নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন এই অভিজ্ঞ তারকা। কাসেমিরোর পাশাপাশি ব্রাজিলের আরেক মিডফিল্ডার ফাবিনিও বর্তমানে ক্লাবহীন অবস্থায় রয়েছেন।
একই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছেন মিশরের ফুটবল জাদুকর মোহাম্মদ সালাহ। লিভারপুলের সঙ্গে দীর্ঘ ও সফল অধ্যায়ের ইতি টেনে তিনি এখন ঠিকানাবিহীন। বিশ্বকাপ শেষে তাঁর সৌদি প্রো লীগের কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো মেলেনি। আপাতত সালাহ তাঁর পুরো মনোযোগ ধরে রেখেছেন মিশরের বিশ্বকাপ অভিযানে। অন্যদিকে, ৪০ বছর বয়সী ক্রোয়েশিয়ান কিংবদন্তি লুকা মদরিচও ক্যারিয়ারের এক জটিল মোড়ে আছেন। এসি মিলান ছাড়ার পর তিনি নতুন কোনো ক্লাবে যোগ দেবেন, নাকি বিশ্বকাপ শেষেই বুটজোড়া তুলে রাখবেন তা এখনো ধোঁয়াশাপূর্ণ।
এই তালিকায় আরও আছেন কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেস এবং ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জন স্টোনস। মিনেসোটা ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে হামেসের, আর ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে দীর্ঘ ১০ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনেছেন স্টোনস। এছাড়াও রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে আসা অস্ট্রিয়ার ডেভিড আলাবা, ঘানার থমাস পার্টে, এবং বেলজিয়ামের থমাস মুনিয়ের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকারাও নতুন ঠিকানার খোঁজে আছেন। এই ফুটবলারদের জন্য বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই তাই নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করার এবং শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজর কাড়ার এক সুবর্ণ সুযোগ।