
ঘরে ঘরে শোক, চোখে চোখে জল। আজ শনিবার আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে যখন শহীদ মায়েরা মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন, পুরো গ্যালারি ভারী হয়ে উঠছিল দীর্ঘশ্বাসে। সেই মঞ্চেই দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বললেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। আর তাঁদের হত্যাকারীদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে।
তবে একই সঙ্গে একটি সতর্কতার কথাও বললেন তিনি। বিচারের নামে যেন অবিচার না হয়, সেটি নিশ্চিত করার কথা স্পষ্ট করে জানালেন। তাঁর ভাষায়, "যে অন্যায়কারী, যে হত্যাকারী তার যাতে সঠিক বিচার হয়। আইনের সব নিয়ম বজায় রেখে, দরকার হলে একটু সময় নেব। কিন্তু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই হবে।"
সম্মেলনে নিজের কষ্টের কথাও বললেন প্রধানমন্ত্রী। জানালেন, দীর্ঘ নির্বাসনে থাকা, মা ও ভাইকে হারানোর ব্যথা তিনি বুকে বহন করছেন। সেই ব্যক্তিগত যন্ত্রণার কথা বলেই শহীদ পরিবারগুলোকে বললেন, তাদের কষ্টটা তিনি কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের হিসাবে জুলাই আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি নিহত হওয়ার কথা বলা হলেও তাঁর নিজস্ব হিসাবে শহীদের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। এর মধ্যে ৬৫ জন ছিলেন শিশু। এই শিশুদের কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, তাদের কোনো অপরাধ ছিল না, তবু তারা জীবন দিয়েছে।
জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ আয়োজনে এই সম্মেলনের মূলমন্ত্র ছিল, "সবার আগে বাংলাদেশ।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ পরিবারগুলোর হাতে স্মৃতিস্মারক তুলে দেন এবং তাঁদের হাত থেকেও একটি স্মারক গ্রহণ করেন।