
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ভৌত অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। ‘বিদ্যমান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক এই নতুন মেগা প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের মোট ৫৩৯টি বিদ্যালয়কে নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও নিখুঁতভাবে শুরু করার লক্ষ্যে এসব বিদ্যালয়ের তালিকা যাচাই-বাছাই করে জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যয়নপত্র পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা
প্রকল্পটির কার্যক্রম চূড়ান্ত করার আগে নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলোর তালিকা শতভাগ নির্ভুল ও হালনাগাদ হওয়া নিশ্চিত করতে সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মিরাজুল ইসলাম উকিল (এনডিসি) স্বাক্ষরিত এই জরুরি নির্দেশনাটি দেশের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিজ নিজ জেলার বিদ্যালয়গুলোর তথ্য সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ছকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ একটি প্রত্যয়নপত্র প্রস্তুত করে তা ৫ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগে জমা দিতে হবে। কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার সুবিধার্থে ১১টি সিটি করপোরেশন এলাকার নির্বাচিত বিদ্যালয়ের তালিকা এবং প্রত্যয়নপত্রের একটি নমুনাও নির্দেশনার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিদ্যালয় নির্বাচনের রূপরেখা
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের জন্য দেশের ৬৪টি জেলার বিদ্যমান ৪৮৮টি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য ‘ইন্টিগ্রেটেড প্রাইমারি এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম’ থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ১১টি সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে আরও ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বিশেষ বিবেচনায় এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পের সুদূরপ্রসারী প্রভাব
সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নীতি-নির্ধারকরা মনে করছেন, এই মেগা প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ভৌত অবকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে নতুন ভবন নির্মাণ, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, নিরাপদ সুপেয় পানি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধাসহ অন্যান্য শিক্ষা-সহায়ক অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। এর ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও বিশ্বমানের আধুনিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি আরও মজবুত করবে।