
আফ্রিকার দেশ সুদানে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতে শিশু মৃত্যুর হার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই দেশটিতে অন্তত ৩৩০ জন শিশু নিহত কিংবা গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সোমবার প্রকাশিত সংস্থাটির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
ইউনিসেফের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে চলমান ক্ষমতার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, সুদানজুড়ে শিশুরা এমন এক নির্মম যুদ্ধের শিকার হচ্ছে, যা দিন দিন আরও বেশি প্রাণঘাতী ও রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বর্তমানে দারফুর এবং কার্দোফান রাজ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু হতাহতের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে উত্তর কার্দোফানের রাজধানী আল-উবাইদ ও এর আশপাশের পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক। গত মে মাস থেকে এই রাজ্যে ড্রোন ও অন্যান্য ভারী অস্ত্রের হামলায় অন্তত ১৮ জন শিশু নিহত এবং ১৭ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সুদানে নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, দেশটির শিশুরা এখন সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি আর চরম বঞ্চনার এক অন্তহীন চক্রে আটকা পড়েছে। তাদের জন্য এখন আর কোনো নিরাপদ জায়গা অবশিষ্ট নেই। নিজেদের ঘরে, রাস্তায়, বাজারে কিংবা শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়েও তারা হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুরা কখনোই যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না এবং তাদের জীবন রক্ষা করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।
ক্রমাগত হামলা ও বোমাবর্ষণের কারণে বাস্তুচ্যুত শিশুদের মনে গভীর মানসিক ট্রমা তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। চলমান সংঘাতে শিশুরা জোরপূর্বক যুদ্ধে জড়ানো, অপহরণ, যৌন সহিংসতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মতো মারাত্মক সব অপরাধের শিকার হচ্ছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাও (আইওএম) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, দ্রুত এই সংঘাত বন্ধ না হলে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে।