
ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে যুক্তরাষ্ট্র দলের মূল স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের ওপর দেওয়া এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে ফিফা। আর এই নজিরবিহীন ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপ। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ট্রাম্পের কয়েক দফা ফোন করার পরই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে, যা ফুটবল বিশ্বে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই ক্ষমতার অপপ্রয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করেছে।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী তার পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকার কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাপের মুখে ফিফা টুর্নামেন্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। ফিফা কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে তারা কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে প্রভাবিত হননি, তবে ইনফান্তিনো ও ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সখ্যের কারণে এই দাবিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। এই সিদ্ধান্তে বেলজিয়ামের প্রধান কোচ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এরই মধ্যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে।
দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দলটি নিজেদের যোগ্যতায় এবং দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসেছে। বালোগানকে ছাড়াই বেলজিয়ামের বিপক্ষে তারা ফেভারিট ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের এই অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘অন্যায্য সুবিধা’ পেয়েছে বলে বিশ্বে ধারণা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এর ফলে আগামী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র জিতলেও তাদের সেই জয় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে। অনেকেই মনে করবেন, এই জয় ফিফারই তৈরি করে দেওয়া।
এবারের বিশ্বকাপ আয়োজনে টিকিটের দাম বা ভিসা সংক্রান্ত কিছু বিতর্ক থাকলেও সামগ্রিকভাবে টুর্নামেন্টটি সফলভাবেই এগোচ্ছিল এবং ইতিবাচক ধারণা তৈরি করেছিল। কিন্তু ট্রাম্পের এই ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর ঘটনা ফুটবলের সৌন্দর্যকে নষ্ট করেছে। নরওয়ের প্রধান কোচসহ অনেক ফুটবল ব্যক্তিত্ব মনে করেন, ফিফার এই মারাত্মক ভুলের কারণে ফুটবল বিশ্ব এমন একটি বার্তা পেল যে ক্ষমতার জোরে যেকোনো নিয়মই বদলে ফেলা সম্ভব। এর ফলে বিশ্ববাসীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হলো।