
দেশের আবাসন, উৎপাদন ও বস্ত্র খাতের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান শেল্টেক গ্রুপ এক বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, রিয়েল এস্টেট, টেক্সটাইল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন উদীয়মান খাতে মোট ১,৫০৪ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে গ্রুপটি। এই বৃহৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৪৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যার একটি বড় অংশই তৈরি হবে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে।
১৯৮৮ সালে যাত্রা শুরু করা শেল্টেক গ্রুপ দীর্ঘ চার দশক ধরে গুণগত মান ও সময়মতো প্রকল্প হস্তান্তরের জন্য দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। নতুন এই বিনিয়োগের একটি বড় অংশ নিজস্ব অর্থায়নে এবং বাকি অংশ ব্যাংক ঋণ, যৌথ উদ্যোগ ও বৈদেশিক অর্থায়নের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্র ও পরিকল্পনাগুলোর বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
কৃষি ও রপ্তানি খাত: স্পেনীয় যৌথ উদ্যোগে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে স্থাপন করা হয়েছে ‘স্পেন-বাংলাদেশ অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড’। ইতোমধ্যে এখানে ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং উৎপাদিত পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি হচ্ছে। এই প্রকল্পে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদের সুবিধা পাবেন এবং পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে এখান থেকে বছরে ২,৪৪০ কোটি টাকার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রিয়েল এস্টেট সম্প্রসারণ: রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় ৫৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭ তলা বিশিষ্ট আধুনিক শপিং কমপ্লেক্স ‘শেল্টেক লিগ্যাসি প্লাজা’ নির্মাণ করা হবে। প্রায় ২ লাখ বর্গফুটের এই বাণিজ্যিক ভবনটি আন্তর্জাতিক মানের লিড (LEED) সনদপ্রাপ্ত গ্রিন বিল্ডিং হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া জলসিঁড়ি আবাসন এলাকায় যৌথ উদ্যোগে ২৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১টি আবাসন প্রকল্পের কাজ চলছে।
উৎপাদন ও বস্ত্র শিল্প: সিলেটে দেশের একমাত্র অ্যাব্রেসিভ পেপার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রাইন্ডটেক লিমিটেড’-এ ইতোমধ্যে ৮৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, বস্ত্র খাতে ব্লেন্ডেড সুতার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ‘এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড’ ১৭৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি: কার্বন নিঃসরণ কমানো ও টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে নিজেদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে গ্রুপটি।
এ বিষয়ে শেল্টেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা এবং দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই এই বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্রুপের বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৬,৭০০ কোটি টাকা, যা নতুন প্রকল্পগুলো চালু হলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৯,২০০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।