
রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। শুনানি শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান রাশেদ খান মেননকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন। সকালে শুনানিতে রাশেদ খান মেননকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
দুদকের করা এই মামলার বিবরণী অনুযায়ী, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে পূর্বপরিচিত ১৩ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।
কী কী অনিয়ম হয়েছিল?
নিয়োগ বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের প্রতিনিধি বা বিষয়ভিত্তিক কোনো শিক্ষক রাখা হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া এনটিআরসিএ (NTRCA) সনদ ছাড়াই প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
এমনকি নিয়োগ পরীক্ষা পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার আগেই পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়েছিল।
এই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্কুলটির তৎকালীন অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য সচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্স কর্নেল আলমগীর হোসেন, গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য মাহবুব উর রহমান, মো. আবুল হোসেন, মীর মোশাররফ হোসেন ও জহিরুল ইসলাম খান। এছাড়া অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষকও এই মামলার আসামি।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২২ আগস্ট রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমাতে হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাও চলমান রয়েছে।