
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের একটি ঘটনা জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কের। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অংশে একটি ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শনের দাবি উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি ও ভিডিওর ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়া জয়ের পর মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে উদযাপন করেছিলেন। সে সময় স্টেডিয়ামজুড়ে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানও শোনা যায়। পরে তিনি সেই ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনের জনগণকে উৎসর্গ করেন এবং গাজায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন।
মিশরের কোচের সেই ফিলিস্তিনপন্থি উদযাপনের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ইসরায়েলের কয়েকজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এ বিষয়ে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের স্বীকৃত সদস্য হওয়ায় ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন টুর্নামেন্টের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করে না।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি কোচ লিওর মোর ইয়োসেফ মিশরের কোচ হোসাম হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা আরব বিশ্বের ক্রীড়া বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলের মতো একটি বিশ্বজনীন মঞ্চে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে এমন মন্তব্য বা আচরণ থেকে সংশ্লিষ্ট সবারই বিরত থাকা উচিত।