
জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের প্রধান ধর্মীয় নেতা বা গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ হুসেইনের ওপর এক সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েল। এই সময়ের মধ্যে তিনি পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না।
জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে খুতবা দেওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আল-আকসা মসজিদে যাওয়ার ওপর সাময়িক এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। মূলত এই নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়ার জন্যই তাকে কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল। অবশ্য শেখ মুহাম্মদ হুসেইনের সাথে এমন আচরণ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের জন্য নতুন কিছু নয়, এর আগেও তার ওপর বিভিন্ন সময়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল।
ফিলিস্তিনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জুমার খুতবা দেওয়ার সময় মুফতি শেখ হুসেইন ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো ফিলিস্তিনিদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি থাকা ফিলিস্তিনিদের মুক্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, খুতবায় এই দোয়া করার কারণেই তার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই পুরো বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে অফিশিয়াল কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনা ও উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের অত্যাচার ও সহিংসতা বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।
ফিলিস্তিনিদের দেওয়া তথ্যমতে, গত শুক্রবার নাবলুসের হুওয়ারা অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। এতে শিশুসহ অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি আহত হন। হামলার সময় একটি সাধারণ ফিলিস্তিনি পরিবারের চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে ইসরায়েলি সেনারা এসে উল্টো ওই আক্রান্ত পরিবারেরই তিন সদস্যকে ধরে নিয়ে যায়।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছে যে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল মূলত ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার অভিযান চালাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক এই সংস্থার আনা গুরুতর অভিযোগের বিষয়েও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।