
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শৈলকুপার মির্জাপুর ইউনিয়নের কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মামুনুর রশিদ যুক্তি কয়েকজন ছাত্রকে ডেকে একটি ক্লাসরুমে জড়ো করেন। এরপর বাইরে থেকে একজন নাপিত ডেকে এনে ক্লাসরুমের ভেতরেই তাদের চুল কাটানো শুরু করা হয়। এই খবরটি যখন শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে পৌঁছায়, তখন অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে অভিভাবকরা দলে দলে বিদ্যালয়ে এসে এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এক পর্যায়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির রূপ নেয়।
ভুক্তভোগী অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের জোর করে ধরে এনে ক্লাসরুমের ভেতর নাপিত দিয়ে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ছিল।
তবে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মামুনুর রশিদ যুক্তি। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তার দাবি, আগের দিন অভিভাবকদের নিয়ে একটি মিটিং করা হয়েছিল এবং সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে যেসব শিক্ষার্থীর চুল বড় বা অগোছালো, তাদের চুল ঠিক করে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ীই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর হাতাহাতির ঘটনাটি একজন অভিভাবকের উসকানিতে ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুজ্জামান হিরোক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ে এমন একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে যা একেবারেই আশা করা যায় না। সভাপতি ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কাজটি করতে চেয়েছিলেন। এখন আমরা সবার সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।
এই বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে জানতেন না। খবর পাওয়ার পর এখন তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে তিনি পরিষ্কার করে বলেন যে, আইনগতভাবে কোনো শিক্ষার্থীর চুল এভাবে জোর করে কেটে দেওয়ার কোনো নিয়ম বা সুযোগ নেই।
সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মীরা বলছেন, এই ধরনের আচরণ শিক্ষার্থীদের মনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের মানসিক দিকটি বিবেচনা করা উচিত এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সবাইকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।