
চলতি ফিফা বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর এক অনন্য রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার আসন্ন সেমিফাইনাল ম্যাচটি ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে এক সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।
ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য ম্যাচ খেললেও, মেসির দীর্ঘ ফুটবল যাত্রায় এর আগে কখনোই ইংলিশদের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। আগামী বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠেয় সেমিফাইনাল ম্যাচটি হবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ২০৬তম ম্যাচ, যা একই সঙ্গে থ্রি লায়নসদের বিরুদ্ধে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ‘ডেট’ বা দ্বিপাক্ষিক লড়াই।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, দীর্ঘ ২১ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। এর আগে সর্বশেষ ২০০৫ সালে জেনেভায় একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটি, যেখানে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। মজার ব্যাপার হলো, সেই ম্যাচের কয়েক মাস আগেই আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে মেসির অভিষেক হলেও, অভিষেক ম্যাচেই লাল কার্ড পাওয়ার কারণে পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকায় ২০০৫ সালের সেই ইংল্যান্ড ম্যাচে খেলা হয়নি তাঁর।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনোই সেমিফাইনালে দেখা হয়নি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার। তবে ১৯৬৬ এবং ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দুই দলের মধ্যকার লড়াইগুলো ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। ১৯৬৬ সালের আসরে ইংল্যান্ড জয় পেলেও, ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং শতাব্দীর সেরা গোলের ওপর ভর করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। দুই দশকের ক্যারিয়ারে অবশেষে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভাঙার এই ঐতিহাসিক মিশনে মেসি কেমন পারফর্ম করেন, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।