
ইসলামে ‘রিয়া’ বা লোক দেখানোর মানসিকতাকে একটি মারাত্মক আত্মিক ব্যাধি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যেকোনো ভালো কাজ বা ইবাদত যদি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য না করে মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে তা পরকালে কোনো উপকারে আসবে না, বরং তা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে। এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.) এই লোক দেখানোর আমলকে দাজ্জালের ফেতনার চেয়েও উম্মতের জন্য বেশি বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন।
লোক দেখানো মানসিকতা বা রিয়া হলো এক ধরনের গোপন শিরক (ছোট শিরক)। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারায় আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, যারা খোঁটা দিয়ে এবং কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান-সদকা নষ্ট করে, তারা মূলত সেই ব্যক্তির মতো যে নিজের সম্পদ মানুষকে দেখানোর জন্য ব্যয় করে এবং আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখে না। তাদের এই লোকদেখানো আমল পাথরের ওপর জমে থাকা মাটির মতো, যা প্রবল বৃষ্টিপাতে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যায় এবং পরকালে তার কোনো সওয়াব অবশিষ্ট থাকে না।
হাদিস শরিফে রিয়াকারীদের পরিণাম সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে সর্বপ্রথম যে তিন ব্যক্তিকে হাজির করে জাহান্নামে নিক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হবে, তারা হলেন একজন লোক দেখানো শহীদ, একজন লোক দেখানো আলেম ও কারী এবং একজন লোক দেখানো দানশীল ব্যক্তি। তারা দুনিয়াতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয়, বরং বীর, আলেম ও দাতা হিসেবে মানুষের কাছে নামডাক কামানোর উদ্দেশ্যে আমল করেছিলেন। দুনিয়াতে তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত সুনাম দেওয়া হলেও আল্লাহর কাছে তাদের কোনো আমল কবুল না হওয়ায় তাদের টেনেহেঁচড়ে জাহান্নামে ফেলা হবে।
পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসা এবং সূরা আল-মাউনেও লোকদেখানো নামাজি ও মুনাফিকদের অলসতার তীব্র সমালোচনা করে কঠিন শাস্তির বার্তা দেওয়া হয়েছে। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয় সম্পর্কে জানাব না, যা আমার দৃষ্টিতে তোমাদের জন্য দাজ্জালের ফেতনার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক? সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, তা হলো গোপন শিরক। যেমন, কোনো ব্যক্তি নামাজ পড়তে দাঁড়াল, আর কেউ তার দিকে তাকিয়ে আছে দেখে সে তার