
ওয়ানাড়: কেরালার ওয়ানাড়ের কাল্লাডিতে সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় শেষ নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানের পর উদ্ধারকারীরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে নদী থেকে তার দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। পরে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি ওই প্রকল্পেরই একজন নির্মাণ ব্যবস্থাপক বা কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহত ব্যক্তির নাম বিক্রম রানা (৫৮)। তিনি হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার ফতেহপুর মহকুমার থাকোলি গিরথান গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গত ৭ জুলাই এই সুড়ঙ্গ প্রকল্প এলাকায় আচমকা পাহাড় ধসে পড়লে তিনিসহ আরও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ হন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ মীনাক্ষী সেতুর কাছাকাছি নদীর ভাটিতে লোহার ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে তার দেহটি উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে এই জায়গার দূরত্ব প্রায় ৩৫০ মিটার। বিক্রম রানার মরদেহ পাওয়ার পর এই দুর্যোগে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে আট জনে পৌঁছাল। তিনিই ছিলেন এই ঘটনার সর্বশেষ নিখোঁজ ব্যক্তি।
উদ্ধারের পর নিহতের আত্মীয়রা মরদেহটি শনাক্ত করেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি ভাইথিরি তালুক হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও এমবামিং শেষে মরদেহটি তার দেশের বাড়ি হিমাচল প্রদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওয়ানাড় ও কোঝিকোড জেলাকে যুক্ত করার জন্য আনাক্কামপোয়িল থেকে মেপ্পাদি পর্যন্ত একটি যুগল সুড়ঙ্গ বা টুইন টিউব টানেল তৈরির কাজ চলছিল। গত মঙ্গলবার সেখানে হঠাৎ করেই এই ভয়াবহ ভূমিধস ঘটে।
টানা পাঁচ দিন খোঁজাখুঁজি করেও যখন বিক্রম রানার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন রবিবার সকাল থেকে উদ্ধারকাজে আরও গতি আনা হয়। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), বিশেষ অভিযান দল (এসওজি), ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ এবং স্থানীয় যুব স্বেচ্ছাসেবক দল একযোগে এই বিশাল উদ্ধার অভিযান চালায়। নিখোঁজদের অবস্থান নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত শ্রমিকদের বয়ান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছিল।
আপাতত তল্লাশি পর্ব শেষ হলেও ধসে পড়া মাটি ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ দ্রুতই শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে এই পুরো ঘটনার পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত জারি রয়েছে।