
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এবং গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। একই সাথে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসন ও পুনর্বর্তন প্রতিহত করা হবে।
শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জুলাই স্মরণের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই কর্মসূচি শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি টিএসসি থেকে শুরু হয়ে উপাচার্য চত্বর, মধুর ক্যানটিন ও শাহবাগ মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টিএসসিতে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক নাজমুল হাসান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এই দেশের মাটিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অস্তিত্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। তিনি দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যারা কোনো ধরনের হত্যা, গুম বা লুটপাটের সাথে জড়িত ছিলেন না, তারা জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে মেনে নিন। এই সত্যকে স্বীকার করে নিলে আপনারাও সঠিক ইনসাফ পাবেন।
এর পাশাপাশি বর্তমান সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই প্রস্তাবিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য চালু করতে হবে।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্য নিয়ে কথা বলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাদমান আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, আমরা সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। তবে তার আগে যারা দেশের ভেতরে থেকে ভারতের বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায় এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে, দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নেওয়াজ খান বাপ্পীও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আর কোনোভাবেই দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করা উচিত নয়। যদি তিনি ফিরতেই চান, তবে শত শত শহীদের রক্ত মাড়িয়ে তাকে আসতে হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী টাকার বিনিময়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের আড়ালে চোরাগোপ্তা মিছিল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।