
আমেরিকার তৈরি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাওয়ার পথ পরিষ্কার করতে এক অভিনব কৌশল নিয়েছে তুরস্ক। নিজেদের কাছে থাকা রাশিয়ার তৈরি শক্তিশালী এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে আঙ্কারা। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই স্পর্শকাতর প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে মস্কোও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
সবকিছুর শুরু ২০১৯ সালে। সে সময় আমেরিকার প্রবল আপত্তি অগ্রাহ্য করে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনেছিল তুরস্ক। এই এক সিদ্ধান্তের কারণে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ হয়ে আমেরিকা তাদের সর্বাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্প থেকে তুরস্ককে বাদ দিয়ে দেয় এবং দেশটির ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়। এমনকি তুরস্কের কিনে রাখা ছয়টি এফ-৩৫ বিমানও আটকে রাখে মার্কিন প্রশাসন।
২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের বরফ গলতে শুরু করে। তুরস্কের জন্য এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো এফ-৩৫ প্রকল্পটিতে পুনরায় ফিরে আসা। তবে মার্কিন আইন অনুযায়ী, আঙ্কারাকে এফ-৩৫ দিতে হলে প্রথমে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের কাছে আর রাশিয়ার কোনো এস-৪০০ ব্যবস্থা নেই।
এই জটিলতা কাটাতে গত দেড় বছর ধরে আঙ্কারা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নানা আলোচনা হয়েছে। প্রথমে ভাবা হয়েছিল ক্ষেপণাস্ত্রের মূল অংশগুলো খুলে কোনো নিরাপদ জায়গায় নিষ্ক্রিয় করে রাখা হবে। কিন্তু তাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে তুলে নেওয়ার কোনো নিশ্চয়তা মিলছিল না।
অবশেষে তুরস্ক এই সামরিক প্রযুক্তিটি তৃতীয় কোনো দেশের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তাব তোলে। যেহেতু সংযুক্ত আরব আমিরাত আগেই রাশিয়ার তৈরি বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করছে এবং নিজেদের সামরিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে, তাই তাদের কাছে এটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন যে, এই ব্যবস্থাটি অন্য দেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে তুরস্কের সাথে তাদের আলোচনা চলছে। বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল হলেও রাশিয়ার তরফ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
যেহেতু এই কেনাবেচা সরাসরি তুরস্ক ও আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পন্ন হবে, তাই এতে আমেরিকার সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সুযোগ থাকবে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তির বিনিময়ে রাশিয়া হয়তো তুরস্কের কাছ থেকে বড় কোনো সুবিধা বা গ্যাস চুক্তির নবায়ন আদায় করে নিতে পারে। তবে এই চুক্তি সফল হলে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।