
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সহজ জয় পায়নি আর্জেন্টিনা। ম্যাচজুড়ে ডিফেন্সের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে মেসিদের। তবে অতিরিক্ত সময়ের জাদুকরী পারফরম্যান্সে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটল আলবিসেলেস্তেরা। শেষ চারের লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের।
ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল আর্জেন্টিনা। মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় লিওনেল মেসির নিখুঁত কর্নার কিক থেকে হেডের সাহায্যে দলকে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এক গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করলেও মাঠের লড়াই মোটেও সহজ ছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধে সুইজারল্যান্ড খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ড্যান এনদোয়ে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। ১-১ গোলে সমতায় ফিরে ম্যাচ আরও জমিয়ে তোলে সুইসরা।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড। ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো ফাউল করার নাটক করতে গিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড অর্থাৎ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। শুরুতে রেফারি আর্জেন্টিনার পারেন্দেসকে ফাউলের জন্য কার্ড দেখালেও, ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সাহায্যে সিদ্ধান্ত বদলে এমবোলোকেই মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও সুইজারল্যান্ড নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত বীরত্বের সাথে ডিফেন্স ধরে রাখে।
নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ গোলে সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ১১২ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত। বক্সের বাইরে ২৫ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার এক বাঁকানো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন হুলিয়ান আলভারেজ। এই অসাধারণ গোলের পর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (১২০+১ মিনিটে) লাউতারো মার্তিনেস আরেকটি গোল করে দলের ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে একই আসরে দুটি ভিন্ন ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে একাধিক গোল করার নতুন রেকর্ড গড়ল আর্জেন্টিনা। তবে নির্ধারিত সময়ে মাত্র দুটি শট অন-টার্গেটে রাখতে পারা কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে। আগামী বুধবার আটলান্টায় শেষ চারের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।