
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের বোর্ড পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই আবহাওয়া বেশ বৈরী রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক জেলা ভারী বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতায় নাকাল হচ্ছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও তার আশেপাশের জেলাগুলোতে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় সেখানকার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
সাধারণত এই ধরনের বড় পাবলিক পরীক্ষার বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত হুট করে নেওয়া হয় না। এর পেছনে কাজ করে একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের দেওয়া বাস্তব পরিস্থিতির রিপোর্ট এবং সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে।
চট্টগ্রামের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চল, যেমন নেত্রকোণা বা কিশোরগঞ্জের হাওড় এলাকাতেও অনেক ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে দাবি উঠছে যে, শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রে পানি না উঠলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভাবা ঠিক নয়। কারণ অনেক পরীক্ষার্থীর নিজের বাড়িঘরই এখন বন্যার পানিতে ডুবন্ত। এমন অবস্থায় মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় বসা তাদের জন্য ভীষণ কঠিন।
এদিকে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রের কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জোরদার হয়। তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন ছিল। জানা গেছে, ওই কলেজের মাঠে পানি জমায় স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ নৌকার ব্যবস্থা করে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। বৃষ্টির কারণে এক পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে গেলে তাকে নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পরীক্ষার্থীরা যাতে পুরো সময় পান, সেজন্য ওই কেন্দ্রে পরীক্ষার সময়ও বাড়িয়ে দেয় বোর্ড কর্তৃপক্ষ। শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকেও স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, স্থানীয়ভাবে বন্যা বা জোয়ারের পানিজনিত কোনো সমস্যা হলে কেন্দ্র ও বোর্ড কর্তৃপক্ষ যেন তাৎক্ষণিক সমন্বয় করে সময় বাড়িয়ে দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
আন্তশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সব বোর্ডের অধীনে থাকা প্রায় পৌনে তেরো লাখ পরীক্ষার্থীর প্রত্যেকেই তাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবার নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা মাথায় রেখেই প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
একই সাথে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন। অনেক সময় পুরোনো বা অন্য কোনো বার্ষিক পরীক্ষার ভিডিওকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা বলে চালিয়ে দিয়ে সস্তা প্রচারণার চেষ্টা করা হয়, যা পরীক্ষার্থীদের মনে অহেতুক মানসিক চাপ তৈরি করে। তাই যেকোনো তথ্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে কান না দিয়ে বোর্ডের অফিসিয়াল নোটিশের ওপর ভরসা রাখাই শ্রেয়।