
পবিত্র কোরআনে ‘রিজিক’ শব্দটি ১২৩ বার উল্লেখ করা হয়েছে, যার প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই বার্তাটি স্পষ্ট যে, রিজিকের মূল উৎস মহান আল্লাহ। তিনিই মানুষকে সুখ ও দুঃখের সম্মুখীন করেন এবং তিনিই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। তবে এই বিশ্বাস এবং কর্মপ্রচেষ্টার মধ্যে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ।
রিজিক ও নির্ধারিত ভাগ্য ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, মানুষের সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়েই তার রিজিক, আয়ু ও কর্ম নির্ধারিত হয়ে যায়। এটি বিশ্বাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, মানুষ তার ভাগ্যকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকবে। সুখ ও দুঃখের সমাহারেই পার্থিব জীবন, আর এই জীবনের উন্নতির জন্য চেষ্টা ও পরিশ্রম করা একজন মুমিনের দায়িত্ব।
পরিশ্রম ও বিশ্বাসের সমন্বয় রিজিক অন্বেষণের ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও পরিশ্রম এই দুয়ের সমন্বয় অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে পাখিদের জীবনযাত্রার উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, তারা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বেরিয়ে সন্ধ্যায় ভরা পেটে নীড়ে ফেরে। অর্থাৎ, রিজিক আল্লাহর পক্ষ থেকে আসলেও তা অন্বেষণের জন্য চেষ্টা করা বা ঘর থেকে বের হওয়া ঈমানের দাবি।
ভুল ধারণা: কর্মহীন হয়ে শুধু বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করা অলসতা।
বিপথগামী চিন্তা: আবার আল্লাহর ওপর ভরসা না রেখে কেবল নিজের সামর্থ্যকেই সব মনে করা অহংকার।
রিজিকের প্রকৃত স্বরূপ রিজিক কেবল অর্থ বা সম্পদ নয়। সারাদিন নিরাপদে থাকা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, সন্তানদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলা এবং সুস্থ থাকা—এ সবই আল্লাহর দেওয়া বিশেষ রিজিক। একজন মুমিন যখন তার প্রতিটি কাজ আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করেন, তখন তিনি প্রকৃত রিজিকদাতাকে স্মরণ রাখেন। নিজের সাফল্য বা ব্যর্থতাকে কেবল নিজের কৃতিত্ব মনে না করে আল্লাহর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়াই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।