
চলতি ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের চোখধাঁধানো আলো আর বিশ্বব্যাপী কোটি ভক্তের তুমুল উন্মাদনার মাঝেই ঘটে গেল এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। মাঠের ফুটবল যখন বিশ্বজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছে, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ঝরে গেল এক সম্ভাবনাময় তরুণের তাজা প্রাণ। ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বর্বর হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ফিলিস্তিনের তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলার ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসান। গতকাল শনিবার তাঁর মৃত্যুর এই বেদনাদায়ক খবরটি নিশ্চিত করেছে ফুটবলারের পরিবার এবং ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (PFA)।
নিহত ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসানের বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। তিনি ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব ফুটবল দলের একজন নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। স্থানীয় ক্লাব ‘আল-মুঘাইয়ির’-এর হয়ে মাঠ কাঁপানো এই কিশোর ফুটবলার গত ১১ জুলাই পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়ির গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক ও সহিংস হামলার সময় গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর ছোঁড়া গুলি ফাদির উরুতে আঘাত করে এবং তাঁর হাড় ও ধমনী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রামাল্লার প্যালেস্টাইন মেডিকেল কমপ্লেক্সে ভর্তির পর চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি; হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘ এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণ ফুটবলার।
শনিবারই ফাদির মরদেহ হাসপাতাল থেকে তাঁর নিজ গ্রাম আল-মুঘাইয়িরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে অশ্রুসিক্ত চোখে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন পরিবার ও স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা। ফাদির এই অকাল প্রয়াণ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান ইসরায়েলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীদের অব্যাহত সহিংসতার এক নির্মম চিত্র আবার নতুন করে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের অবৈধ দখলে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে সেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর এই নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩ জনে। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে ফুটবলে; নিহত ক্রীড়াবিদদের মধ্যে ৫৬৮ জনই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ফুটবল খেলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশ্বকাপের এই মহোৎসবের মাঝে ফাদির চলে যাওয়া বিশ্ব ফুটবল মহলে এক গভীর শোক ও বিষাদের ছায়া নেমে এনেছে।