
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কেন্দ্র সরকার ও আন্দোলনকারী ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি এই ঘোষণা দেন।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও দাবি প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির প্রতিবাদে গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর-মন্তরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সিজেপি-এর নেতাকর্মীরা। তাদের এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক।
আন্দোলনকারীদের প্রধান তিনটি দাবি ছিল:
১. শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্রুত পদত্যাগ।
২. আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা বা হয়রানি না করা।
৩. নিট কেলেঙ্কারির জেরে আত্মহননকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।
যেভাবে এলো পদত্যাগ শুক্রবার কেন্দ্র সরকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানায়নি। এর জেরে শনিবার সকালে সিজেপি সাফ জানিয়ে দেয়, শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তারা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না। সরকারের ওপর তৈরি হওয়া এই চরম চাপের মুখেই শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে এক্সে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, “এই দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ভারতের নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক অঙ্গীকার।”
নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর পৌঁছাতেই যন্তর-মন্তরে আন্দোলনস্থলে উল্লাসে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। টানা ২৬ দিন অনশন করার পর বৃহস্পতিবার রাতে অনশন ভাঙা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক একে ‘প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এদিকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে শিক্ষার্থীদের এই বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “এটি সত্যের জয় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একগুঁয়েমির পরাজয়।” একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার নির্দেশদাতাদের শাস্তি এবং মোদিকে দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।