
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সংবিধান সংস্কারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজপথে ধারাবাহিক ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে এনসিপি।
কমিটি প্রত্যাখ্যান ও বিরোধী দলের অবস্থান
গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধনে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু বিরোধী দল এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে। তারা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবিতে এখনো অনড়।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তারা জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ। সেই রায়কে পাশ কাটিয়ে এমন কোনো কমিটি গঠন করা হলে তা তারা মানবেন না।
‘জুলাই সনদ’ নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের দ্বন্দ্ব
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তৈরি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। গণভোটে জনগণ এর পক্ষে রায় দিলেও এটি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী জোটের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
ক্ষমতাসীন বিএনপি সনদের কয়েকটি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে ভিন্নমত পোষণ করে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের পক্ষে। অন্যদিকে, এনসিপিসহ বিরোধী জোটের দাবি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই গণভোটের রায় অনুযায়ী হুবহু সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "সরকার সংবিধান সংস্কারের নামে প্রহসন না করে দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুক। অন্যথায়, জুলাই বিপ্লবের সব অংশীজন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"
ক্ষমতাসীনদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ
এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতারা ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ং গণভোটের পক্ষে ভোট চাইলেও, নির্বাচনের পর দলটি তাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।
দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও কঠোর ভাষায় বলেন, "বিএনপির গদি মোটা হয়ে গেছে। এখন জনগণকে তাদের গোনার সময় নেই। সংবিধান সংস্কার না হলে যেকোনো মুহূর্তে জনগণ এই সংবিধানের বিরুদ্ধেই ফুঁসে উঠবে।"
আসছে চূড়ান্ত রূপরেখা জানা গেছে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে দেশব্যাপী বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ শুরু করেছে। আগামী ২৫ জুলাই সিলেটে এবং এরপর ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকার ওই মহাসমাবেশ থেকেই সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিরোধী জোট তাদের চূড়ান্ত আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করবে।