
পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। কঙ্গো সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মৃত্যু ও আক্রান্ত মিলিয়ে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৫ জনে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার মতে, দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া এই প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব কঙ্গোর ইতিহাসে নজিরবিহীন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে বাড়ছে ঝুঁকি শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আব্দুলসামি নাসিদি চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, প্রমাণিত ও কার্যকর ভ্যাকসিনের অভাবেই ইবোলা এখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে কঙ্গোর সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে। যুদ্ধবিগ্রহ চলমান থাকায় এবং সাধারণ স্বাস্থ্য অবকাঠামো না থাকায় ওই সব এলাকায় ভাইরাসটি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
ভয়ংকর ‘বুন্দিবুগয়ো’ ভ্যারিয়েন্ট ও টিকার খোঁজ জানা গেছে, বর্তমানে কঙ্গোতে ইবোলার ‘বুন্দিবুগয়ো’ নামের একটি ভ্যারিয়েন্ট ছড়াচ্ছে। এটি ইবোলা ভাইরাসের চারটি বিরল ধরনের একটি। মানবদেহে মারাত্মক প্রভাব ফেলা এই ভ্যারিয়েন্টটির কোনো কার্যকর টিকা এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি।
তবে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানীরা জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ’ জানিয়েছে, তারা দ্রুতগতিতে একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছে, যা ইতোমধ্যে এক স্বেচ্ছাসেবীর দেহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।
ফিরে দেখা: আগের মহামারি ইবোলা ভাইরাসের ভয়াল থাবা আফ্রিকার জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব আফ্রিকার তিন দেশ গিনি, লাইবেরিয়া এবং সিয়েরা লিওনে ২৮ হাজারের বেশি মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই মহামারিতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের শিকার হয়ে মৃত্যু হয়েছিল অন্তত ১১ হাজার মানুষের।