
সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্যমতে, চীন ও ভারত থেকে শুরু করে মাগরেব এবং আন্দালুসিয়া পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম বিশ্বের অতুলনীয় কারুশিল্প ও উদ্ভাবনী দক্ষতার এক অপূর্ব নিদর্শন এই জাদুঘর।
জাদুঘরটির অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো এর আরবি ক্যালিগ্রাফি বিভাগ। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে বিরল সব কোরআনের পাণ্ডুলিপি। সাধারণ লিখনরীতি থেকে ক্যালিগ্রাফি কীভাবে সময়ের সঙ্গে একটি উচ্চমার্গের আধ্যাত্মিক শিল্পে রূপ নিয়েছে, তা এখানে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বিশেষ প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এখানে রয়েছে ২.৬ মিটার দীর্ঘ একটি কাপড়ের খণ্ড, যার ওপর অতিসূক্ষ্ম অক্ষরে পবিত্র কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া এমন একটি পাণ্ডুলিপিও এখানে সংরক্ষিত আছে, যার প্রতিটি অক্ষরের ভেতরে মহান আল্লাহর এক একটি গুণবাচক নাম নিখুঁতভাবে খোদাই করা।
ধর্মীয় সামগ্রীর পাশাপাশি ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এটি এক অনন্য স্থান। এখানে প্রাথমিক ইসলামিক রাষ্ট্র, উমাইয়া, আব্বাসীয় আমলসহ পরবর্তী সময়ের মুসলিম রাজবংশের হাজার হাজার ঐতিহাসিক মুদ্রা প্রদর্শিত হচ্ছে। তৎকালীন অর্থনীতি ও ইসলামী সভ্যতার ক্রমবিকাশ এসব মুদ্রার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
ক্যালিগ্রাফি ও মুদ্রার পাশাপাশি প্রাচীন সিরামিক, বস্ত্র এবং স্থাপত্যকলার নানা প্রাচীন উপাদানও দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে।
শুধু প্রদর্শনীই নয়, ইন্টারেক্টিভ ডিসপ্লে, সাময়িক প্রদর্শনী, কর্মশালা ও সেমিনারের মাধ্যমে জাদুঘরটি একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটি ইসলামী ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আরও সুদৃঢ়ভাবে যুক্ত করতে সাহায্য করবে।