
ইসলামে দান-সদকার ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। মহানবী (সা.) সদকার নানা বরকত ও সুবিধার কথা বারবার উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সদকা মানুষের জীবনের বিপদ-আপদ প্রতিরোধ করে, গুনাহ মুছে ফেলে এবং আল্লাহর অসন্তোষ থেকে রক্ষা করে।
শুধু তাই নয়, সদকা জাহান্নামের আগুন থেকে ঢাল হিসেবে কাজ করে এবং মানুষের আয়ুতে বরকত আনে। অনেক সময় মানুষের মনে ভয় থাকে যে দান করলে হয়তো সম্পদ কমে যাবে। কিন্তু মহানবী (সা.) আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলেছেন, সদকা কখনোই সম্পদ কমায় না, বরং তা সম্পদ বহুগুণ বৃদ্ধি করে এবং তাতে বরকত নিয়ে আসে।
পবিত্র কোরআনেও বেশি বেশি দান-সদকা করার এবং এক্ষেত্রে বিলম্ব না করার কঠোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা সুরা আল-মুনাফিকুনের ১০ নম্বর আয়াতে বলেছেন, "তোমাদের কারও মৃত্যু আসার আগেই আমি যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে দান করো। অন্যথায় সে বলবে, হে আমার রব, আমাকে যদি আরও অল্প কিছুদিন সময় দেওয়া হতো, তবে আমি দান করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।"
সদকার প্রভাব বোঝাতে মহানবী (সা.) হজরত ইয়াহইয়া (আ.)-এর একটি চমৎকার রূপক গল্প বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি শরীফের হাদিস অনুযায়ী, নবী ইয়াহইয়া (আ.) একবার বনি ইসরাইল জাতিকে বলেছিলেন, "আল্লাহ আমাকে তোমাদের সদকা করার নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেছেন। কারণ যে ব্যক্তি সদকা দেয় তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো, যাকে শত্রুরা বন্দি করেছে এবং হাত ঘাড়ে বেঁধে মৃত্যুদণ্ডের জন্য নিয়ে যাচ্ছে। তখন সে তার কাছে থাকা সবকিছু দিয়ে নিজেকে মুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবটি গৃহীত হলে সে মুক্তি পায়।"
এই হাদিস থেকে সুস্পষ্ট শিক্ষা হলো, সদকা হলো এমন এক কার্যকরী মাধ্যম যার দ্বারা আমরা জাহান্নামের ভয়াবহ আগুন থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারি। এটি আমাদের জীবনের সেই পাপের শিকলগুলো কেটে ফেলে, যা প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনে বাধা দেয়। আমাদের চারপাশে এমন অনেক অভাবী ও দরিদ্র মানুষ আছেন, যারা প্রতিদিন আমাদের সাহায্যের মুখাপেক্ষী। তাই পরকালের কল্যাণের জন্য আমাদের উচিত সঠিক ও উপযুক্ত ব্যক্তি খুঁজে তাদের দান-সদকা করা।