
সাবলীল ও সুন্দরভাবে কোরআন তিলাওয়াত প্রতিটি মুসলিমের একান্ত কাম্য। শুদ্ধ তিলাওয়াত কেবল শ্রুতিমধুরই নয়, এটি মুমিনের মনে অনাবিল আত্মিক প্রশান্তিও এনে দেয়। তিলাওয়াত সুন্দর করার মূল চাবিকাঠি হলো তাজবিদের নিয়মগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা।
আপনার কোরআন তিলাওয়াতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে নিচের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুসরণ করতে পারেন:
প্রতিটি আরবি বর্ণ নির্ভুলভাবে উচ্চারণ করতে শেখা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক উচ্চারণ আয়াতের প্রকৃত অর্থ ঠিক রাখে এবং প্রতিটি শব্দের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। যেমন, 'তা' বর্ণটি উচ্চারণের সময় জিভের ডগা ওপরের সামনের দাঁতের মাড়ির সঙ্গে স্পর্শ করতে হয়, যা অনেকটা ইংরেজির 'টি' অক্ষরের উচ্চারণের মতো শব্দ তৈরি করে।
প্রতিটি অক্ষরের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কোনোটি নরম করে পড়তে হয়, আবার কোনোটি ভারী বা স্পষ্ট করে পড়তে হয়। এই বিষয়গুলো জানা থাকলে তিলাওয়াতের গাম্ভীর্য ও মাধুর্য বৃদ্ধি পায়। উদাহরণস্বরূপ, সুকুনযুক্ত কলকলাহ বর্ণসমূহ (ক্বাফ, ত্বা, বা, জীম এবং দাল) উচ্চারণের সময় একটি প্রতিধ্বনি বা লাফিয়ে ওঠার মতো শব্দ তৈরি করতে হয়।
তাজবিদের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো নুন সাকিন ও তানভিনের গুন্নাহ বা নাসিক্য ধ্বনির নিয়মগুলো। তিলাওয়াতের সময় এই নিয়মগুলোর সঠিক প্রয়োগ আপনার পড়ার সাবলীলতা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।
তিলাওয়াতে চমৎকার ছন্দ ও গভীরতা আনতে কোন ধ্বনি কখন এবং কীভাবে দীর্ঘ করতে হয়, তা ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। সঠিক নিয়ম মেনে চললে তিলাওয়াত আরও শ্রুতিমধুর হয়। যেমন, কোনো অক্ষরের ওপর যখনই মদের চিহ্ন থাকবে, তখন নিয়ম অনুযায়ী সেটির উচ্চারণ কয়েক সেকেন্ড দীর্ঘ করে পড়তে হয়।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি নিয়ে আসে। পবিত্র কোরআনের সুরা রা'দ এর ২৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, "যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।"
তিলাওয়াতের এই ঐশী প্রশান্তি সম্পর্কে বুখারি শরিফে বারা ইবনু আযিব (রা.) থেকে একটি চমৎকার হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি জানান, এক ব্যক্তি সুরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করছিলেন। তখন তার পাশে বাঁধা একটি ঘোড়া লাফালাফি করতে শুরু করে। লোকটি দেখলেন, একটি মেঘের মতো ছায়া এসে ঘোড়াটিকে ঢেকে দিচ্ছে। সকালে ওই ব্যক্তি নবীজির (সা.) কাছে গিয়ে ঘটনাটি খুলে বললে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "এ হলো প্রশান্তি, যা কোরআন তিলাওয়াতের কারণে অবতীর্ণ হচ্ছিল।"