
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে একটি প্রশংসাসূচক চিঠি পাঠিয়ে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। চিঠিতে তিনি লিওনেল স্কালোনির দলের ‘পেশাদারিত্ব’ এবং আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অথচ ফাইনাল শেষে শিরোপাজয়ী স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মারামারিতে জড়ানোর কারণে আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফিফারই তদন্ত চলমান রয়েছে।
ইংলিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এএফএ সভাপতি তাপিয়াকে পাঠানো ওই চিঠিতে ইনফান্তিনো আর্জেন্টিনার রৌপ্য পদক জয়ে অভিনন্দন জানান।
তিনি লেখেন, আলবিসেলেস্তেদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এই বিশ্বকাপকে ব্যতিক্রমী এক আসরে পরিণত করেছে। এ ধরনের সাফল্য সবসময়ই নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব, সূক্ষ্ম বিষয়ে মনোযোগ এবং খেলাটির প্রতি ভালোবাসার ফল। চিঠিতে তিনি খেলোয়াড়, কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং পুরো দলকে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।
যেখানে মারামারিতে জড়ানোর দায়ে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, সেখানে তাদের ‘পেশাদারিত্ব’ কীভাবে প্রশংসিত হতে পারে, তা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া ফিফার নীতি লঙ্ঘন করে মাঠে ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। এসব বিতর্কের মাঝেই খোদ ফিফা সভাপতির এমন প্রশংসাসূচক চিঠি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্পেনের তারকা রদ্রির একটি আঘাতের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরপর আর্জেন্টিনার লিয়েন্দ্রো পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন এবং স্প্যানিশ তরুণ তারকা গাভিকে শার্ট ধরে মাটিতে আছাড় মারেন।
এমনকি আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি ওলমোর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে তাকে ধাক্কা দেন, যার জন্য তিনি পরে অনুতপ্ত হয়েছিলেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল ঘটনার প্রেক্ষিতে ফিফা আগেই তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছিল।