
চলুন জেনে নেওয়া যাক গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর সুস্থতায় কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত এবং কোন বিষয়গুলো মেনে চলা প্রয়োজন:
কাঁচা বা অপাস্তুরিত খাবার: কাঁচা ডিম, কাঁচা মাংস, সামুদ্রিক খাবার এবং অপাস্তুরিত দুগ্ধজাত পণ্য এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো থেকে খাদ্যবাহিত সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি থাকে।
উচ্চ পারদযুক্ত মাছ: হাঙ্গর, সোর্ডফিশ এবং কিং ম্যাকেরেলের মতো বেশি পারদযুক্ত মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে কম পারদযুক্ত সামুদ্রিক বা দেশীয় মাছ পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন: অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করা ক্ষতিকর। দিনে ২০০ মিলিগ্রামের কম ক্যাফেইন গ্রহণ করা উচিত, যা প্রায় ১ থেকে ২ কাপ কফির সমান।
অ্যালকোহল: গর্ভাবস্থায় যেকোনো পরিমাণ অ্যালকোহল গ্রহণ করা মা ও শিশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এটি সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে।
প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার: অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি এবং উচ্চ-সোডিয়ামযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। এগুলোতে ক্যালোরি বেশি থাকলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ খুবই কম থাকে।
গর্ভাবস্থা মানেই দুজনের সমান খাবার খাওয়া নয়, বরং সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:
সঠিক ওজন বৃদ্ধি: মায়ের গর্ভাবস্থার পূর্ববর্তী বিএমআই (BMI)-এর ওপর ভিত্তি করে ধীরে ধীরে এবং সঠিক পরিমাণে ওজন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। ওজন খুব বেশি বা খুব কম হওয়া মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
খাবারের ধরন: একবারে পেট ভরে না খেয়ে অল্প পরিমাণে এবং ঘন ঘন খাবার গ্রহণ করা উচিত। এটি গর্ভাবস্থায় বমি ভাব, অ্যাসিডিটি এবং রক্তে শর্করার মাত্রার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে দারুণ সাহায্য করে।
জীবনযাপন ও পরিচ্ছন্নতা: খাবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এর পাশাপাশি রাতে পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রসবপূর্ব চেক-আপ করানো জরুরি।
হালকা ব্যায়াম: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হালকা মাত্রার হাঁটা বা প্রসবপূর্ব যোগব্যায়াম করা যেতে পারে, যা শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখে।
সুষম ডায়েট: গর্ভাবস্থায় খাবার বাদ দেওয়া বা ওজন কমানোর জন্য খুব বেশি কঠোর কোনো খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রতিটি গর্ভাবস্থাই ভিন্ন এবং তা মায়ের শারীরিক অবস্থা (যেমন- গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা থাইরয়েড) ও গর্ভাবস্থার পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে। একজনের জন্য যে ডায়েট উপযুক্ত, অন্যজনের জন্য তা না-ও হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় চূড়ান্ত খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।