
সংসদে না এসে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করার মনোভাব বদলে ফেলার জন্য বিরোধী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ১৯৯১ কিংবা ১৯৯৬ সালের দিকে তৎকালীন বিরোধী নেতা শেখ হাসিনা যেভাবে ‘সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না’ ধরনের বক্তব্য দিতেন, বর্তমানে বিরোধী দলগুলোর গলাতেও যেন সেই একই সুর শোনা যাচ্ছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ২০২৪ সালের আন্দোলন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি স্মরণ করে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
সভায় বক্তারা বলেন, কোনো গুজবে কান না দিয়ে জুলাই সনদের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন করে এই কাজ আরও বেগবান করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো ধরনের সংস্কার বা পরিবর্তন নিয়ে কোনো দ্বিমত থাকলে রাজপথে নামার চেয়ে সংসদের টেবিলে আলোচনা করাই সেরা পথ।
গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে সমালোচনার গুরুত্ব স্বীকার করে তিনি বলেন, সবকিছু যেন সংসদীয় রীতিনীতির ভেতরে থেকেই হয়। রাজপথকে উত্তপ্ত করার বদলে আলোচনা ও যুক্তির রাজনীতি ফিরিয়ে আনার ওপর তিনি জোর দেন। একই সঙ্গে সম্প্রতি ঘটা বিভিন্ন অসংগতি ও বিশৃঙ্খলার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজর রাখছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারী শাসনের পর একটা নতুন বাংলাদেশ গঠনে একটু সময় লাগে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ওপর আস্থা রেখে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় কোনো বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে না এবং আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে থাকতে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট বক্তারাও নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অজস্র মানুষের জীবনের বিনিময়ে আসা নতুন এই সংসদই যেন সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়। আবেগ বা অনর্থক বিতর্কের বদলে কার্যকর রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন মূল কাজ হওয়া উচিত।
বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী তার মূল প্রবন্ধে বলেন, রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর এবার একটি বৈষম্যহীন, মুক্ত ও সুশাসিত বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে অন্যান্য বক্তারাও অনৈক্য ও অহেতুক রাজনৈতিক বিভেদ দূরে ঠেলে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।