
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের হামলা ও সহিংসতার প্রতিবাদে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গণজমায়েত করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। ৫ আগস্ট সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিবিরের অনেক নেতাকর্মীকে হাতে পিভিসি পাইপ নিয়ে অংশ নিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন। নেতারা অভিযোগ করেন যে, ক্যাম্পাসে দখলদারিত্ব ও অস্থিরতা তৈরির চক্রান্ত চলছে। পটুয়াখালী থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ ছাত্রদলের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি নেতৃত্বকে নিজেদের ছাত্রসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, অপশাসন ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে শিক্ষার্থীরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
জামায়াতে ইসলামীর অন্যান্য ঢাকা ভিত্তিক নেতৃত্ব এবং সহকারী নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তারা অভিযোগ করেন যে শিক্ষাঙ্গনে সহিংস পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেতারা এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সমাবেশের সভাপতি এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার দখলদারিত্ব, গণরুম বা নির্যাতনমূলক সংস্কৃতি আর বরদাশত করা হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে জানান, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে শিবির কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ছাত্রদল ও শিবিরের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে একাধিক দফা ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সহিংসতায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পরদিনই এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে ছাত্রশিবির।