
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এই জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সালমান শাহর আইনজীবী আবিদ হাসান জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে যা হলো আদালতে ডনের পক্ষে জামিন শুনানি করেন আইনজীবী এম ফরিদুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মূল দাবি ছিল—ডনের বিরুদ্ধে এজাহার ও গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি কথিত এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আসামির জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশ দিয়ে তাকে কারাগারেই রাখার নির্দেশ দেন।
যেভাবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ডন এর আগে গত ৯ আগস্ট (রোববার) ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়ার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। হত্যা মামলা চলমান থাকায় তার বিদেশযাত্রায় আগে থেকেই আইনি নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পরপরই তাকে হেফাজতে নেয় সিআইডি।
ফিরে দেখা: সালমান শাহর মৃত্যু ও নতুন মামলা ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসায় রহস্যজনকভাবে মারা যান তৎকালীন তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। শুরুতে তার মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলেও পরিবারের দাবির মুখে পরবর্তীতে এটি হত্যা মামলা হিসেবে মোড় নেয়।
দীর্ঘ তিন দশক ধরে আলোচিত এই মামলার তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসে। এর ধারাবাহিকতায়, গত বছরের (২০২৫ সাল) ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় নতুন করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় সালমানের স্ত্রী সামিরা হককে প্রধান আসামি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, আলোচিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
এই হাই-প্রোফাইল মামলায় ডনের গ্রেপ্তারি ও জামিন নামঞ্জুরের ঘটনা সালমান শাহ ভক্তদের মাঝে নতুন করে বিচার পাওয়ার আশা জাগিয়েছে।