
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চলতি মাসের ৮ আগস্ট না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান মেসির বাবা হোর্হে মেসি। প্রিয় অভিভাবকের বিদায়ে মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকা; নিয়েছিলেন ফুটবল থেকে সাময়িক বিরতিও। আর্জেন্টিনায় বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে সম্প্রতি ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মাঠে ফেরেন তিনি। প্রত্যাবর্তনের পর প্রথম দুই ম্যাচে জালের দেখা না পেলেও, তৃতীয় ম্যাচে এসে ঠিকই স্বরূপে আবির্ভূত হন এলএম টেন।
ফিলাডেলফিয়ার চেস্টারের সুবারু পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির ২৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দল যখন ১-১ গোলে সমতায়, ঠিক তখনই ডান প্রান্ত থেকে বল পেয়ে দারুণ নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানান মেসি। এরপর ডি-বক্সের জটলার ভেতর থেকে নেওয়া তার নিখুঁত কোণাকুণি শট সরাসরি আশ্রয় নেয় জালে। গোল করার পরপরই সতীর্থরা ছুটে এলেও মেসি ছিলেন নির্বাক, আকাশের দিকে তাকিয়ে যেন অদৃশ্য কোনো বার্তা পাঠাচ্ছিলেন বাবার কাছে। সতীর্থরা তাকে জড়িয়ে ধরে এই আবেগঘন মুহূর্তে সান্ত্বনা দেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-২ গোলের ড্র নিয়ে শেষ হয়।
আবেগ আর ভালোবাসায় মোড়ানো এই গোলটি পরিসংখ্যানের খাতাতেও যোগ করেছে নতুন মাত্রা। পেশাদার ক্যারিয়ারে এটি ছিল মেসির ৯২২তম গোল। এক হাজার গোলের অবিস্মরণীয় মাইলফলক ছুঁতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ৭৮টি গোল। ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি কবে নাগাদ বুট জোড়া তুলে রাখবেন, তা এখনো নিশ্চিত না করলেও ২০২৭ সালের কোপা আমেরিকা পর্যন্ত তার খেলা চালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। সব মিলিয়ে শোককে শক্তিতে পরিণত করে মেসির এই ফেরা ফুটবলপ্রেমীদের আরও একবার মুগ্ধ করেছে।