
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে’ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশের পর শুরু হয়েছে নতুন ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের এই সংক্রান্ত বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রতিবেশী ভারত ও চুক্তির অন্যতম অংশীদার পাকিস্তান। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন সব বিষয়ের ওপর তারা সার্বক্ষণিক কড়া নজর রাখছে।
সম্প্রতি সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কোনো প্রস্তাব এলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচক হিসেবেই বিবেচনা করবে। এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও মধ্যপ্রাচ্যের কোনো নিরাপত্তা কাঠামোতে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ পেলে তা সাদরে গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন প্রকাশ্য আগ্রহের পরই বিষয়টি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রণধীর জয়সওয়াল সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে, এমন প্রতিটি বিষয়ের ওপর তারা সার্বক্ষণিক দৃষ্টি রাখেন। একই প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও ভারতের উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্মরণ করিয়ে দেন যে, নাগরিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের এমন আগ্রহের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে চুক্তিটির অন্যতম উদ্যোক্তা পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি মূলত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো। বাংলাদেশ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয়, তবে যৌথ নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তবে সমমনা দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত এই প্রতিরক্ষা কাঠামোটি বর্তমানে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে ইসলামাবাদ।